যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ মাটি কারবারের অভিযোগ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩:১৯
ভাণ্ডারবাড়ি-গোসাইবাড়ি পাকা সড়কের পাশের জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। শনিবার সকালে তোলা। - কালের কণ্ঠ
বগুড়ার ধুনটে জহুরুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে পাকা সড়কটি।
অভিযুক্ত জহুরুল উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ওই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি-গোসাইবাড়ি পাকা সড়কের পাশের জমি থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। ট্রলি ও ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে চলছে এই কর্মকাণ্ড। ট্রাক্টর দিয়ে সেই মাটি অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। পাশ থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার ফলে পাকা সড়কটি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের পাশে থাকা নিজের জমিতে পুকুর খনন ও পুকুরের পাড় বাঁধার নামে অবৈধভাবে মাটি কেটে তা বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছেন যুবদল নেতা জহুরুল।
সরকারি বিধি অনুযায়ী আঞ্চলিক বা গ্রামীণ সড়কের উভয় পাশের ১০ ফুটের মধ্যে কোনো পুকুরের পাড় রাখা যাবে না। উভয় পাশে এ পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রেখে তবেই পুকুরের পাড় বাঁধতে হবে।
এদিকে, অতিরিক্ত মাটিবোঝাই ট্রাক চলাচল করায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কম ওজন ধারণকারী সড়কগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, এলাকার বিভিন্ন সড়কে সারা দিনই মাটিবোঝাই ট্রলি চলাচল করছে। অবৈধভাবে মাটি কেটে সড়ক নষ্ট করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে কাদা জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশও মারাত্মক দূষিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশু, বৃদ্ধসহ এলাকার বাসিন্দারা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যুবদল নেতা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার নিজের জায়গায় পুকুর খনন করে পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে। তবে সামান্য কয়েক গাড়ি মাটি গ্রামের মসজিদ-মাদরাসার উন্নয়ন কাজের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে রাস্তাঘাটের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন বলেন, মাটি কেটে বিক্রি করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।