নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানারে নির্বাচনি প্রচার

রাজধানীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, নির্বিকার নির্বাচন কমিশন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৪২

নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানারে নির্বাচনি প্রচার । ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত আচরণবিধি অমান্য করে রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করে নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছেন একাধিক প্রার্থী। বিভিন্ন দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক-মোড়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ফুটপাতজুড়ে বড় আকারের ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলছে। এতে একদিকে নগর শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) জাকির হোসেনের প্রচারে নিষিদ্ধ পিভিসি ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন এবং ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর প্রচারণায়।

সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে তাদের ছবি, প্রতীক ও স্লোগানসংবলিত ব্যানার প্রকাশ্যে ঝুলতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে প্লাস্টিকজাত পিভিসি ব্যানার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও পোস্টার বা ব্যানার টাঙানোতেও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা। তবে বাস্তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ওপর ঝুলে থাকা ব্যানারের কারণে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, “২০২০ সালে আমরা ব্যানার ও পোস্টারে প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর একটি গবেষণা করেছি। এবারের নির্বাচনে পোস্টার কিছুটা কমলেও পিভিসি ব্যানারের ব্যবহার বরং বেড়েছে। এসব প্লাস্টিক মাটির সঙ্গে মিশে না, ড্রেন ও নালায় জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে। আবার পোড়ানো হলে মারাত্মক বায়ুদূষণ হয়।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মানলে এসব করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু অনেক প্রার্থী বা তাদের অতিউৎসাহী কর্মীরা নিয়ম ভাঙছেন। এতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাবই ফুটে উঠছে।”

পরিবেশবিদদের মতে, পিভিসি ব্যানার সহজে নষ্ট না হওয়ায় দীর্ঘদিন পরিবেশ দূষণ করে এবং নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারির অভাবে এসব অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না।

গ্রীন ভয়েসের এক পরিবেশকর্মী বলেন, “পিভিসি ব্যানার নিষিদ্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ ও নগরজীবন রক্ষা। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া শুধু নির্দেশনা দিয়ে এই অনিয়ম বন্ধ করা যাবে না।”

সাহিনুর ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, “নির্বাচনের সময় পুরো শহর পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে যায়। ভোট শেষ হলে এগুলো পরিষ্কার করার দায়িত্ব কেউ নেয় না। ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে।”

ঢাকা-৮ আসনের বাসিন্দা ও শিক্ষক রকিকুল আলম বলেন, “আচরণবিধি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিপক্বতারও পরীক্ষা। যারা শুরুতেই নিয়ম ভাঙছে, তারা ক্ষমতায় গেলে আইন মানবে—এই আস্থা তৈরি হয় না।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, দল-মত নির্বিশেষে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতেও নির্বাচনী প্রচারে একই চিত্র বারবার ফিরে আসবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top