গাজা যুদ্ধের প্রভাব
ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা ও পিএসটিডি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৫
ফিলিস্তিনের গাজায় টানা দুই বছর ধরে চলা হামলার সময় এবং এর পরবর্তী পর্যায়ে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আঘাত–পরবর্তী মানসিক চাপজনিত রোগ (পিএসটিডি) মারাত্মকভাবে বেড়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে অংশ নেওয়া ইসরাইলি বাহিনীর সদস্যরা গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সংকটে ভুগছেন, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালায় হামাস। এতে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত হন। ওই দিনের পর থেকেই গাজা উপত্যকায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। টানা প্রায় দুই বছর যুদ্ধ চলার পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর হামাস–ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এ পর্যন্ত উপত্যকাটিতে ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতের প্রভাবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে পিএসটিডি ও অন্যান্য মানসিক রোগের হার প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার ১৮০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
গাজা আগ্রাসনে আহত ২২ হাজার ৩০০ ইসরাইলি সেনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে পিএসটিডিতে ভুগছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরাইলের এমেক মেডিকেল সেন্টারে সংঘাতফেরত সেনাদের ওপর গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া মনোবিজ্ঞানী রোনেন সিদি বলেন,
“ইসরাইলি সেনারা মূলত দুই কারণে পিএসটিডিতে ভুগছেন। একটি হলো সংঘাতকালীন মৃত্যুভয়, অন্যটি হলো নৈতিক আঘাত। সংঘাতের সময় এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার কারণে তারা এখন মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন।”
ইসরাইলি পার্লামেন্ট কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৭৯ জন ইসরাইলি সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে ইসরায়েলে সংঘটিত মোট আত্মহত্যার ঘটনার ৭৮ শতাংশই সংঘাতে অংশ নেওয়া ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে ঘটেছে। যথাযথ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা না দিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান রোনেন সিদি।
ইসরাইলের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাকাবির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কাছে চিকিৎসাধীন ইসরাইলি সেনাদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা চেয়েছেন এবং ২৬ শতাংশ উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন।
গাজা সংঘাতে অংশ নেওয়া এক ইসরাইলি সেনা জানান, যুদ্ধ কমে এলেও এখনো তিনি গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলি হামলায় গাজার বেশির ভাগ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাবার, আশ্রয় ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ফিলিস্তিনি চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্কের মধ্যে বসবাসের ফলে গাজার মানুষের মধ্যে ভয়াবহ মানসিক আঘাত তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও মারাত্মক হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।