মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলা স্থগিত করল রাশিয়া, ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরতি

ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলা স্থগিত করল রাশিয়া, ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরতি | প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ২২:৪০

ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে হামলা স্থগিত করল রাশিয়া, ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ইউক্রেনে সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে রাশিয়া। এই বিরতি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র ও প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর জানিয়েছে রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি।

পেসকভ বলেন, “আমরা আশা করছি এই বিরতি যুদ্ধাবসান নিয়ে আলোচনার জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।”

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছে কি না বা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইউক্রেনও পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে কি না—এসব প্রশ্নেরও জবাব এড়িয়ে যান ক্রেমলিন মুখপাত্র।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনে আগামী এক সপ্তাহ রুশ বাহিনী কোনো হামলা চালাবে না। সেখানে ভয়াবহ শীত পড়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিয়েভ ও অন্যান্য শহরে হামলা বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছিলাম, এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন। আমাদের আলোচনা ছিল খুবই চমৎকার।”

এর একদিন আগে বুধবার ইউক্রেনের একজন সংসদ সদস্য অ্যালেক্সেই গোনচারেঙ্কো দাবি করেন, ইউক্রেনের বিদ্যুৎখাতে হামলা বন্ধের বিষয়ে কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। 

বর্তমানে ইউক্রেনে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী রোববার থেকে তা আরও কমে মাইনাস ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোতে যোগদানের জন্য ইউক্রেনের তৎপরতাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের জেরেই এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়।

অভিযানের অংশ হিসেবে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২৬ জানুয়ারি রাতে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বিদ্যুৎ স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

এতে ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ৩৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ প্রায় ১২ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎমন্ত্রী ডেনিস শ্মিগাল বৃহস্পতিবার জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তবে এখনো ১০ লাখের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎ সংযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top