আবারও শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১৫
শেষ মুহূর্তে সিনেটে সরকারি অর্থায়ন চুক্তি পাস হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার আংশিকভাবে শাটডাউনের মুখে পড়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাত থেকে সরকারি অর্থায়নে স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সিনেট অধিকাংশ সরকারি সংস্থার জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থায়নে সম্মতি দিলেও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের (ডিএইচএস) জন্য মাত্র দুই সপ্তাহের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বিলটি এখনো প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পায়নি, ফলে শাটডাউন এড়ানো সম্ভব হয়নি।
ডিএইচএস যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছান। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর ডেমোক্র্যাটরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়।
বিবিসি জানায়, এটি গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দ্বিতীয় শাটডাউন। এর আগে ২০২৫ সালে ১ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪৩ দিন সরকারি অচলাবস্থা চলে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউন হিসেবে পরিচিত। সে সময় বিমান চলাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারী দীর্ঘ সময় বেতন পাননি। তবে এবারের শাটডাউন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম, কারণ প্রতিনিধি পরিষদ সোমবার পুনরায় অধিবেশনে বসার কথা রয়েছে।
এরই মধ্যে হোয়াইট হাউস পরিবহন, শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থাকে শাটডাউন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পাঠানো এক স্মারকে কর্মচারীদের নিয়মিত কর্মসূচি অনুযায়ী কাজে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শাটডাউন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে আশা প্রকাশ করা হয়, স্থগিতাদেশ স্বল্পমেয়াদি হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের চুক্তির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডিএইচএসের জন্য বরাদ্দ দুই সপ্তাহের সময়ের মধ্যেই একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন আইনপ্রণেতারা।
ডেমোক্র্যাটরা নতুন চুক্তিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর নীতিমালা আরোপের দাবি জানিয়েছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, আইসিইকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এলোমেলো টহল বন্ধ, বিচারিক ওয়ারেন্ট বাধ্যতামূলক করা, ক্যামেরা চালু রাখা এবং কর্মকর্তাদের পরিচয় স্পষ্ট করার ওপর জোর দেন তিনি।
মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টি নামে এক আইসিইউ নার্স নিহত হওয়ার ঘটনায় অভিবাসন এজেন্টদের কৌশল নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলই সমালোচনা করেছে। গত সপ্তাহে এক সংঘর্ষের সময় তাকে আটক করতে গেলে এক মার্কিন সীমান্তরক্ষী এজেন্টের গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গুলির ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।