আজ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৬

সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের এই দিনে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। জন্মের দুই শতক পেরিয়েও তিনি অমর হয়ে আছেন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে।

বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর স্রষ্টা মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি আজ কবি-সাহিত্যিকদের কাছে তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে এটি পর্যটকদের কাছেও একটি আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিবছর দেড় লক্ষাধিক দর্শনার্থী টিকিট কেটে মহাকবির স্মৃতিচিহ্ন দেখতে আসেন। তবে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে এখনো পুরোপুরি পর্যটকবান্ধব হয়ে ওঠেনি মধুপল্লী।

মধুসূদন দত্তের শৈশব কাটে সাগরদাঁড়িতে। তাঁর বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন জমিদার এবং মা জাহ্নবী দেবী। কলকাতার হিন্দু কলেজে পড়াশোনার সময় তিনি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন। পরে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ, মাদ্রাজে কর্মজীবন, ইংরেজি সাহিত্যচর্চা এবং শেষে বাংলা সাহিত্যে নাটক ও মহাকাব্য রচনার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে মহাকবির আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

যশোর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়ি, কাচারিঘর, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা নিয়ে গড়ে উঠেছে মধুপল্লী। এখানে থাকা জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে কবির ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, হাতে লেখা চিঠি, আসবাবপত্র এবং পরিবার ও বিদেশে অবস্থানকালের ছবি। কপোতাক্ষ নদের তীর ও বিদায়ঘাট দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।

সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি ও জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানান, প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও জানান, এ বছর মেলা না হলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মধুপল্লীর উদ্যোগে মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কবিতীর্থ সাগরদাঁড়ি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top