বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

ঋণখেলাপি জটিলতায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন সাময়িক স্থগিত

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:৪৪

সংগৃহীত

ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা ও দাখিল করা কাগজপত্রে অস্পষ্টতার কারণে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্ত নেন। নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, যাচাইয়ের সময় প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে গুরুতর অস্পষ্টতা ও আইনগত জটিলতা পাওয়া যায়। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করে রোববার বিকেল চারটায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মনোনয়ন স্থগিতের খবরে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২৯ ডিসেম্বর জসিম উদ্দিন আহমেদ চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগের দিন তিনি নিজেই গণমাধ্যমে তার মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যদিও তখনো বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মনোনয়নের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা জোরালো হয়। বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, সভা-সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট ছবি-ভিডিও নতুন করে আলোচনায় আসে। এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়।

আর্থিক দিক থেকেও জসিম উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাংকিং সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রায় ৬০ কোটি টাকার ঋণ সুদসহ বেড়ে প্রায় ৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা বর্তমানে খেলাপি অবস্থায় রয়েছে। এই ঋণখেলাপি বিষয়টিই মনোনয়ন স্থগিতের প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্যও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় দায়ের হওয়া হত্যা চেষ্টা, ঋণখেলাপি ও সহিংসতা সংক্রান্ত মামলায় তার নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

মনোনয়ন স্থগিতের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জসিম উদ্দিন আহমেদ জসিমের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এই মনোনয়ন ও তার স্থগিতাদেশ দলীয় নীতি, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং ভোটারদের আস্থার প্রশ্নকে সামনে এনেছে। এখন রিটার্নিং কর্মকর্তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক মহল।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top