ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের অবস্থানে অনড়, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:৩৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় অনড় রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে “পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই” এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “অপরিহার্য”।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়, গ্রিনল্যান্ড দখলে কতটা দূর যেতে রাজি। জবাবে তিনি বলেন, “সময় হলে আপনারা ঠিকই জানতে পারবেন।” এমনকি দ্বীপটি দখলের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি, তবে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এই অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ট্রাম্পের পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ম্যাক্রোঁ সতর্ক করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বকে এক আইন-কানুনহীন ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মার্ক কার্নি বলেন, অতীতের সেই চেনা বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই।
আজ বুধবার ট্রাম্প দাভোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখানে তিনি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একাধিক বৈঠক করবেন। অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর বিরোধিতার প্রেক্ষিতে তিনি আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পালটা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যচুক্তি স্থগিতের কথা ভাবছে।
এই ইস্যুতে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টাও তার অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ট্রাম্প ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন, বিপদের সময় এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।