বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

আনোয়ারায় সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া দুই শিশুর একজনের মৃত্যু

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সড়কের পাশে বাবার ফেলে যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে ছোট শিশু মোর্শেদ (১৪ মাস) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, “শিশুটির মরদেহ তার দাদির কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। পরে মরদেহ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।”

চিকিৎসকদের বরাতে তিনি আরও জানান, শিশুটি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিল। পাশাপাশি সে চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মোর্শেদকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, মোর্শেদের চার বছর বয়সী বোন আয়েশা বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আনোয়ারার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। সে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিএবি সড়কের পাশ থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক সিএনজি চালক। পরে মানবিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন শিশু দুটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এ ঘটনায় গত ৩১ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলম বাঁশখালী উপজেলা থেকে আনোয়ারা থানায় খোঁজ নিতে এলে আদালতের নির্দেশে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ বাদী হয়ে শিশুদের অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ ও নির্যাতনের অভিযোগে মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে শিশুদের বাবা জেলহাজতে রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শিশু দুটির বাবা পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানদের ফেলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার মহামনি এলাকায় বলে জানা গেছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top