মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

ভবঘুরে পরিচয়ের আড়ালে ভয়ংকর খুনি: কে এই সম্রাট?

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮

সংগৃহীত

সাভারে ছয়জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলার সম্রাট ওরফে সবুজ শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তিনি ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালতে দেওয়া সম্রাটের সব বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনসহ ছয়জনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে হিসেবে সে সাভার মডেল থানা এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজা মোড়ে ঘোরাফেরা করত।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা বলে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত সম্রাট। পরে তাদের আচরণ বা সন্দেহের কারণে নির্মমভাবে হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনায় চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসে সে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর প্রথমে যুবককে এবং পরে তরুণীকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে সম্রাট।

সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী জানান, সম্রাট একজন বিকৃত মানসিকতার মানুষ এবং সাইকোপ্যাথ। তবে তার দেওয়া বক্তব্য কতটা সত্য, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গত সাত মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে লাশ সরাতে দেখা গেলে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে আটক করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা জানান, সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করত এবং মানুষের কাছ থেকে টাকা চাইত। অনেকেই তাকে ভবঘুরে হিসেবেই চিনতেন। তবে সে যে ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার, তা কেউ কল্পনাও করেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্রাটের পরিচয়, ঠিকানা এবং হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top