মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কর্ণফুলীতেই বেশি গাঙ্গেয় ডলফিন

ট্টগ্রামের তিন নদী ও এক খালে ১৬৯ ডলফিন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু নদী এবং কর্ণফুলী–সাঙ্গু সংযোগকারী মুরারী খালের প্রায় ১৮০ কিলোমিটার জলপথে ১৬৯টি গাঙ্গেয় ডলফিনের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ ও ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কর্ণফুলী নদীতেই ডলফিনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছে জরিপকারী সংস্থা।

সোমবার সকালে কর্ণফুলী নদীর সাইলো জেটি ঘাটের কাছে মাঝনদীতে হঠাৎ ভেসে ওঠে একটি ডলফিন। ঢেউ তুলে মুহূর্তেই আবার পানির নিচে তলিয়ে যায় সেটি। তখন নদীতে একটি মাঝারি আকারের নৌকা ও একটি লাইটার জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো নৌযানের চলাচল ছিল না। ঘাটের শ্রমিকরা জানান, শীত মৌসুমে কর্ণফুলীতে মাঝেমধ্যেই এমন দৃশ্য দেখা যায়।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বন বিভাগ ও ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) ২০২৪–২০২৫ সালে দেশের ৪৫টি নদীর ৪ হাজার ৮৯৩ কিলোমিটার এলাকায় জরিপ চালায়। এতে সারা দেশে ৮৭৯টি দলে মোট ২ হাজার ৩০৭টি ডলফিনের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।

এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, হালদা ও সাঙ্গু নদী এবং মুরারী খালে জরিপ চালিয়ে মোট ১৬৯টি ডলফিনের সন্ধান পান গবেষকরা।

ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান—

  • কর্ণফুলী নদী (৬৯ কিলোমিটার): ৫৮টি ডলফিন

  • হালদা নদী (৩২ কিলোমিটার): ৫০টি ডলফিন

  • সাঙ্গু নদী (৪৯ কিলোমিটার): ৪৫টি ডলফিন

  • মুরারী খাল (৩০ কিলোমিটার): ১৬টি ডলফিন

তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে হালদার সংযোগস্থল পর্যন্ত অংশে ডলফিনের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। কর্ণফুলী ও হালদা সরাসরি সংযুক্ত এবং মুরারী খালের মাধ্যমে সাঙ্গুর সঙ্গে সংযোগ থাকায় ডলফিনগুলো এক নদী থেকে অন্য নদীতে চলাচল করে।

হালদা নদী রক্ষার আন্দোলনকারী মো. আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন, শীত মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় ডলফিন বেশি দৃশ্যমান হয়। অতীতে হালদায় ঘন ঘন ডলফিন দেখা গেলেও বর্তমানে তা কমে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর মাদার্শা ও খন্দকিয়া খালের মুখ এলাকায় ডলফিনের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, এই জরিপে ডাবল কনকারেন্ট কাউন্ট ও মার্ক-রিক্যাপচার টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে। সামনে ও পেছনে থাকা দুটি দল বাইনোকুলারের সাহায্যে ডলফিন শনাক্ত করে গণনা সম্পন্ন করে।

ডলফিনের সংখ্যা কর্ণফুলীতে বেশি হলেও এখানেই তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানান গবেষকরা। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কর্ণফুলীতে জাহাজ চলাচল, ড্রেজার, কারেন্ট জাল ও মিহি জালের কারণে ডলফিনের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে।

ডলফিন চোখে দেখতে পায় না; শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে চলাচল করে। চিকন সুতার জাল তারা বুঝতে না পারায় আটকা পড়ে মারা যায়। আবার শ্বাস নেওয়ার জন্য ভেসে ওঠার সময় নৌযান বা ড্রেজারের ধাক্কায়ও ডলফিনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী,

  • ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত হালদা নদীতে ৪৭টি ডলফিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

  • ২০২১ সালে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে যুক্ত ছন্দারিয়া খালেও একটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়।

ডলফিন সংরক্ষণে নদীতে ক্ষতিকর জাল নিয়ন্ত্রণ, নৌযান চলাচলে সতর্কতা এবং ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top