মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আবেগঘন স্মরণসভা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে শহরের সাহেবপাড়া গণকবর চত্বরে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সভায় বক্তারা জানান, ১৯৭১ সালের এই দিনে রাতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের উচ্চমান ক্লার্ক আব্দুল হাফিজ এবং তাঁর ছেলে বেলাল সুজাসহ প্রায় ১০ জনকে পাক হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করে। পরে তাদের মরদেহ সাহেবপাড়ার একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা গোপনে সেখানে দাফন করেন, যা বর্তমানে গণকবর হিসেবে পরিচিত।
স্মরণসভায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ পরিবারের সদস্য জেলাল শফি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ময়েজুল ইসলাম ময়েজ।
এ সময় স্মৃতিচারণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হোসেন, গোকুল রায়সহ অন্যরা। এছাড়াও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মধুসূদন রায়, যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নবীন্দ্রনাথ রায় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে শহীদদের স্বজনরা সাহেবপাড়া গণকবরটি সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণের দাবি জানান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান বক্তারা।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।