বৃহঃস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

৫০০ টাকার জন্য খুন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৪

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খোকন। ছবি: সংগৃহীত

ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মমতাজ ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন আজিয়ার রহমান। রাজধানীতে চাকরি হারিয়ে চট্টগ্রামে এসে রাইডশেয়ার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন তিনি। কিন্তু মাত্র ৫০০ টাকার জন্য থেমে গেল তার জীবনের চাকা। খুনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইয়াছিন, মোহাম্মদ মনির হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স ডবলমুরিং থানাধীন পানওয়ালা পাড়া মিয়াবাড়ি এলাকার একটি ভবনের ৫ম তলা থেকে অভিযুক্ত মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খোকন (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের বাসা থেকে নিহত আজিয়ার রহমানের হেলমেট এবং খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গত ১২ জানুয়ারি নগরীর পোর্ট কলোনি এলাকায় বন্দর মহিলা মাদ্রাসার সামনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আজিয়ার রহমান। বন্দর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বন্দর থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত আজিয়ার রহমান খুলনা জেলার বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মৃত হোসেন আলীর ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ঢাকায় চাকরি হারানোর পর চট্টগ্রামে এসে অল্প টাকায় একটি পুরোনো মোটরসাইকেল কিনে রাইডশেয়ার চালাতেন আজিয়ার। ঘটনার দিনও প্রতিদিনের মতো ভাড়া মারার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। নিহত হওয়ার প্রায় আধঘণ্টা আগে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে শেষ কথা হয় তার। বাসায় ফিরতে দেরি হবে কি না জানতে চাইলে আজিয়ার জানান, আর একটি ভাড়া মেরে ফিরবেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ জানান, হালিশহর থানাধীন বুইল্লার কলোনি কলাবাগান এলাকায় ইয়াবাসেবী শহীদুল নিহত আজিয়ারের কাছে ৫০০ টাকা দাবি করে। আজিয়ার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শহীদুল তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় আজিয়ার মোটরসাইকেল চালিয়ে পোর্ট কানেক্টিং রোড ধরে যাওয়ার সময় বন্দর মহিলা মাদ্রাসার সামনে পড়ে যান।

ওসি আব্দুর রহিম বলেন, এটি একটি ক্লুলেস মামলা ছিল। ঘটনাস্থলের আশপাশে প্রায় এক মাইল এলাকাজুড়ে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে চ্যালেঞ্জ ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ম্যানুয়াল তদন্ত চালিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়

ঘটনাটি হালিশহর থানা এলাকায় সংঘটিত হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দর থানা পুলিশ দফায় দফায় ঘটনাস্থলে গেলেও হালিশহর থানা পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি—এ নিয়ে গুঞ্জন চলছে।

এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top