শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

চাহিদা কম থাকলেও খুলনা জোনেই চাপানো হচ্ছে পুরো ঘাটতি

ভরা শীতে লোডশেডিংয়ে নাজেহাল খুলনা অঞ্চল

এস কে বাপ্পি, খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫২

ছবি: সংগৃহীত

কাল ছিল ৮ মাঘ। ঋতুচক্রে এটি ভরা শীতের মৌসুম। সাধারণত এ সময় এসি চলে না, ফ্যানের ব্যবহারও কম থাকে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং লোডশেডিংও থাকে না বললেই চলে। কিন্তু ভরা শীতের মধ্যেই ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হয়ে পড়েছে খুলনা অঞ্চল। দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে ডুবে থাকছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ আশপাশের জেলার মানুষ।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার পদ্মার এপারে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৫৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ৫০১ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং ছিল ৪৪ মেগাওয়াট।

এর মধ্যে খুলনা জোনের ১৫টি জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪২৬ মেগাওয়াট। সেখানে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৩৮২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওজোপাডিকোর মোট ৪৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পুরো চাপই পড়েছে খুলনা অঞ্চলের ওপর।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওজোপাডিকোর আওতাধীন ২১ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় ৫৬০ মেগাওয়াটে। এর বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৪৯২ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ মেগাওয়াটে।

এদিন খুলনা জোনের ১৫টি জেলায় ৪৩১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৭৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হয়েছে ৫৬ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন ব্যয় কমাতে জ্বালানি তেলচালিত বেশির ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ কয়লা ও গ্যাসচালিত তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শিল্পকারখানা সংশ্লিষ্টরা জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কারখানার পক্ষে উৎপাদন চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

ওজোপাডিকোর পরিচালক ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন,“বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই লোডশেডিং হচ্ছে। এই অঞ্চলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রয়েছে। তবে বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top