‘কালো জাদু’র কারনেই শেফালি জারিওয়ালার মৃত্যু হয়েছে বললেন স্বামী পরাগ ত্যাগী
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০৯
ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শেফালি জারিওয়ালার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ময়নাতদন্তে হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ বলা হলেও, এবার এক ভিন্ন ও বিতর্কিত দাবি সামনে এনেছেন তাঁর স্বামী ও অভিনেতা পরাগ ত্যাগী। তাঁর বক্তব্যে, শেফালির মৃত্যুর পেছনে ‘কালো জাদু’ কিংবা কোনো অতিপ্রাকৃত অশুভ শক্তির প্রভাব থাকতে পারে।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে পরাগ ত্যাগী নিজের বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেকেই এসব বিশ্বাস না করলেও তিনি করেন। তাঁর ভাষায়,
“যেখানে ঈশ্বর আছেন, সেখানে শয়তানও আছে।”
পরাগের দাবি, শেফালির জীবনের শেষ কয়েকটি মাস ছিল অস্বাভাবিক ঘটনায় ভরা। একের পর এক এমন কিছু ঘটছিল, যা তাঁকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দেয়। ধ্যানে বসার সময়ও তিনি বারবার অনুভব করতেন, যেন বড় কোনো অশুভ ঘটনা ইতোমধ্যেই ঘটে গেছে। পরাগের মতে, এবারের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও ভয়ংকর।
পডকাস্টে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পরাগ জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক ব্যক্তির পরামর্শে শেফালি তাদের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে রাখা একটি ‘পঞ্চমুখী হনুমান’ মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে রাখতে বাধ্য করেন। মূর্তিটি সরানোর পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে বহু চেষ্টা করেও সেই মূর্তিটি আর খুঁজে পাননি।
পরাগের বিশ্বাস, ওই পবিত্র মূর্তিটি সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েই শেফালির সুরক্ষা কবচ নষ্ট হয়ে যায় এবং তখনই অশুভ শক্তির প্রভাব শুরু হয়। এর কিছুদিন পরই ঘটে অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যু।
তিনি আরও জানান, শেফালির মৃত্যুর প্রায় এক মাস পর কেউ তাঁকে আবার একটি পঞ্চমুখী হনুমানজির মূর্তি উপহার দেন। সেই সময় আবেগতাড়িত হয়ে তিনি হনুমানজির উদ্দেশে বলেন,
“আপনাকে ধন্যবাদ, কিন্তু আপনি অনেক দেরি করে এসেছেন।”
পডকাস্টে পরাগ ত্যাগী দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, তিনি শতভাগ নিশ্চিত যে শেফালির সঙ্গে কেউ খারাপ কিছু করেছে। তাঁর কথায়,
“যে এই কাজ করেছে এবং যার হাত এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাকে আমি কোনো দিন ক্ষমা করব না।”
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাত্র ৪২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন শেফালি জারিওয়ালা। প্রাথমিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হৃদরোগকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সে সময় জানা যায়, শেফালি নিয়মিত অ্যান্টি-এজিং ইনজেকশন ও কিছু ওষুধ গ্রহণ করতেন। চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা ছিল, এসব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তাঁর মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে এখনো অতিপ্রাকৃত তত্ত্বে অনড় রয়েছেন পরাগ ত্যাগী। তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।