অনলাইন ক্লাসের পরিবর্তে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালু রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাদের মতে, অনলাইন শিক্ষায় ডিভাইস সংকট, উচ্চ ইন্টারনেট ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসক্তি বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সামনে সশরীরে ক্লাস চালু রাখার পক্ষে জোরালো মত দেন বলে জানা গেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনাকালে দীর্ঘ ১৫ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সময় অনলাইন ক্লাস চললেও অন্তত ১৫১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রয়েছে, যাদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১২ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলেজ শাখার জন্য জারি করা এক নোটিশে জানানো হয়, সপ্তাহে তিন দিন সশরীরে (শনিবার, সোমবার ও বুধবার) এবং তিন দিন অনলাইনে (রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার) ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ নিজ মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও দোটানা তৈরি হয়েছে—কোথাও অনলাইন, কোথাও আবার সশরীরে ক্লাস চলায় তারা বুঝে উঠতে পারছেন না কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন। অনেক অভিভাবক বলছেন, হঠাৎ করে একাধিক সন্তানের জন্য আলাদা ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
অভিভাবক রুবিনা ফেরদৌস বলেন, একটি মোবাইল ফোন দিয়ে একাধিক সন্তানের অনলাইন ক্লাস চালানো বাস্তবসম্মত নয়। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন আরও অনেক অভিভাবক।
শিক্ষাবিদদের মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা ছাড়া অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা কঠিন এবং এতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তারা ক্লাসের সময় কমিয়ে হলেও সশরীরে পাঠদান চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিগগিরই এ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা হবে। তবে তা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।