বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারছেন না বর
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১০
স্বাভাবিক বিয়ের আয়োজনই যেন এক মুহূর্তে নাটকীয়তায় রূপ নিল। বর রায়হান কবির অভিযোগ করেছেন, বিয়ের রাতে কনের মুখ ধোয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, যাকে আগে দেখানো হয়েছিল, বাসরঘরে বসা সেই নারী নন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর ও কনের পরিবারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের কক্ষে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট রায়হান কবিরের সঙ্গে জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতেই বর ‘কনে বদল’ অভিযোগ করেন। দুই পক্ষের আলোচনার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় ২৭ আগস্ট কনের বাবা রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জানুয়ারি আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বরের মামা বাদল অভিযোগ করেছেন, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে তাদেরকে দ্রুত বিয়ের আয়োজন করতে বলা হয়েছিল। মেয়ের বাড়িতে গিয়ে, মেয়েকে না দেখে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অতিরিক্ত মেকআপের কারণে তারা বিয়ের রাতে কনে পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। বিয়ের পর কনের মুখ ধোয়ার পর তারা বুঝতে পারেন, কৌশলে অন্য একজনকে বসানো হয়েছে।
অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। মেজো মেয়েকে ছেলেপক্ষ বিয়ের আগে দেখে গেছে। বিয়ের রাতে কনে বদলের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।”
ঘটক মোতালেব জানিয়েছেন, “আমি অন্য কোনো মেয়ে দেখাইনি। মেয়েকে তার বাবার বাসায়ই দেখা হয়েছিল। বাকি বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, “মেয়েপক্ষ ও ঘটকের সঙ্গে মিলে কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। আশা করছি, আদালত প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।”
এভাবে ঠাকুরগাঁওয়ের এই ‘কনে বদল’ ঘটনায় সাধারণ বিয়ের আনন্দে ধাক্কা লেগেছে এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।