শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমন: নতুন অধ্যাদেশে কড়া শাস্তির বিধান

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের দ্বারা মানব পাচারের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসী চোরাচালন করলে বা করার চেষ্টা করলে অধিকতম ১০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হবে।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ, দমন ও অধ্যাদেশ গত ৬ জানুয়ারি গেজেটের মাধ্যমে জারি করা হয়েছে। এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ২০১২ সালে প্রণীত মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন বাতিল হয়েছে।

অধ্যাদেশে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ব্যতিরেকে মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তির ছবি, নাম বা পরিচয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা অপরাধ, যার জন্য ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় শাস্তি হতে পারে।

এ ছাড়া অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে:

  • মানব পাচারের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি অধিকতম যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

  • ক্ষতিসাধন বা হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অধিকতম ৫ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

  • অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল বা প্রচলিত মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করলে অধিকতম ৭ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।

অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া:

  • মানব পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগ থানা বা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা যাবে।

  • তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ দাখিল বা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। প্রয়োজনে সময়সীমা ৪৫ দিন বাড়ানো যাবে।

  • বিচার শুরু হবে ট্রাইব্যুনালে এবং অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে হবে।

  • নারী ও শিশু ভিকটিমদের সুরক্ষার জন্য ক্যামেরা ট্রায়াল করা যাবে।

  • ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় বা দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করা যাবে।

এ অধ্যাদেশ মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top