ইরানের দিকে এগোচ্ছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বহর, সতর্ক করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৪
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এই সামরিক শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানকে আবারও সতর্ক করে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে।
একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এতে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর সম্ভাব্য ইরানি হামলা প্রতিহত করা সহজ হবে।
এই মোতায়েনের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে একাধিক বিকল্প তৈরি হচ্ছে। একদিকে যেমন অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করা যাবে, অন্যদিকে জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর প্রয়োজনে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
“অনেক জাহাজ ওই দিকে যাচ্ছে। এটা শুধুই সতর্কতার জন্য। আমি চাই না কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।”
অন্য এক সময় তিনি বলেন,
“আমাদের একটি নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে এবং হয়তো সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজনই হবে না।”
গত সপ্তাহে এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো যাত্রা শুরু করে। ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে গত সপ্তাহে বিক্ষোভ কিছুটা কমে আসায় তিনি তার কঠোর অবস্থান সাময়িকভাবে শিথিল করেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, তার হুমকির পর ইরান বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করেছে।
বৃহস্পতিবার সেই দাবি পুনরায় করে ট্রাম্প বলেন, তার সতর্কবার্তার পর ইরান প্রায় ৮৪০টি ফাঁসি কার্যকর করা বাতিল করেছে।
ট্রাম্প বলেন,
“আমি বলেছিলাম, যদি তোমরা ওই মানুষগুলোকে ফাঁসি দাও, তাহলে এমন আঘাত আসবে যা আগে কখনও দেখোনি।”
তিনি আরও বলেন, ফাঁসি কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টা আগে সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়েছে, যা তিনি একটি “ভালো লক্ষণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
অতীতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, জুনের হামলার পর ইরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন,
“যদি তারা আবার চেষ্টা করে, তাহলে অন্য জায়গায় যেতে হবে। আমরা সেখানেও সহজেই আঘাত হানতে পারবো।”
সূত্র: রয়টার্স
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।