বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

১৭ বছরকে ২১ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন, সেই সুরভীর ২ দিনের রিমান্ড

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৬

ছবি: সংগৃহীত

ব্ল্যাকমেইল, মামলা-বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গাজীপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন।

সুরভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শুনানিতে পুলিশ সুরভীর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করে রিমান্ড আবেদন করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ২০১৮ সালে নিবন্ধিত জন্মসনদ অনুযায়ী তাহরিমা জান্নাত সুরভীর জন্ম ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর। সে হিসাবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত তার বয়স দাঁড়ায় ১৭ বছর ১ মাস ৭ দিন। অর্থাৎ এখনো তার ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি।

তবে পুলিশ বলছে, মামলার এজাহারে বাদী যে বয়স উল্লেখ করেছেন, সেটিই নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ শিশু হিসেবে গণ্য। এই আইনে শিশুদের রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং তাদের সাধারণ কারাগারে রাখারও বিধান নেই। বরং শিশু আদালতের মাধ্যমে বিচার এবং শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার নির্দেশনা রয়েছে।

কিন্তু সুরভীর ক্ষেত্রে এসব আইন মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় বাদী হয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন। মামলার এজাহারে সুরভীর বয়স ২০ বছর উল্লেখ করা হয়।

একইদিন পুলিশের প্রস্তুত করা প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে সুরভীর পিতা, গ্রাম ও থানা ‘অজ্ঞাত’ উল্লেখ করা হলেও বয়স দেখানো হয় ২১ বছর—যা জন্মসনদের তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তাহরিমা জান্নাত সুরভী ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে অধ্যয়নরত।

আইনজীবী রাশেদ খান জানান, বয়স বাড়িয়ে দেখানোর ফলে ২৬ ডিসেম্বর আদালতে উপস্থাপনের সময় সুরভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, মামলায় এখনো কোনো জব্দ তালিকা নেই, চার্জশিটও দাখিল হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “আসামির বয়স ১৭ নাকি ২১—এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। মামলাটি তদন্তাধীন। বাদী এজাহারে যে বয়স উল্লেখ করেছেন, পুলিশ সেটির ভিত্তিতেই নথি প্রস্তুত করেছে। বয়স কম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে এবং সুরভী ছিলেন ওই চক্রের মূল নেতৃত্বে।

তবে মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে চাঁদার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনেক তথ্যের সঙ্গে মামলার নথির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

কালিয়াকৈর থানায় দায়ের করা মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top