প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ ইরান: পর্বত থেকে মরুভূমি, বন থেকে জলাভূমি
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২০
ইরান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক বিস্তৃত স্বর্গরাজ্য। এই দেশটি শুধু উচ্চ পর্বতমালা ও ঘন বনভূমির জন্যই নয়, বরং স্বর্ণালি মরুভূমি, প্রাণবন্ত জলাভূমি এবং বিচিত্র ভূদৃশ্যের জন্যও সমানভাবে বিখ্যাত। বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ, নিরিবিলি অবকাশ, তারাদের নীচে অ্যাডভেঞ্চার—সবই ইরানে সম্ভব।
পর্বত এবং উচ্চশৃঙ্গ
ইরানি প্ল্যাটোর জাগরোস ও আলবোরজ পর্বতমালা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ।
আলবোরজ পর্বতমালা উত্তর ইরানের দিকে বিস্তৃত, যা কেন্দ্রীয় প্ল্যাটো ও কাসপিয়ান সাগরের ধনী ভূমির মধ্যে প্রাকৃতিক সীমারেখা গড়ে তোলে।
মাউন্ট দামাভান ইরানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (৫,৬১০ মিটার) এবং এশিয়ার তৃতীয় সর্বোচ্চ আগ্নেয়গিরি। এটি বিশ্বব্যাপী পর্বতারোহীদের জন্য প্রিয় গন্তব্য।
জাগরোস পর্বতমালা দেশজুড়ে উত্তরপশ্চিম থেকে দক্ষিণপশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত। হাইকিং, ট্র্যাকিং ও প্রাকৃতিক পথ অন্বেষণের জন্য চমৎকার সুযোগ দেয়।
মরুভূমি এবং অনন্য ভূদৃশ্য
ইরানের মরুভূমি অঞ্চলও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়:
দাশতে লুট (লুট মরুভূমি) ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান, বিশাল বালি, লবণাক্ত সমভূমি ও নাটকীয় কালুটস formation এর জন্য পরিচিত।
দাশতে কাভির বা গ্রেট সল্ট মরুভূমি বিস্তৃত লবণভূমি ও ঝলমলে আকাশ প্রদর্শন করে। মরুভূমি সাফারি, ক্যামেল ট্রেক বা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়।
মারানজাব মরুভূমি কশান শহরের কাছে, যা সহজলভ্য হলেও চমৎকার মরুভূমি অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
সবুজ বন এবং ধানের খেত
উত্তর ইরানের গিলান, মাযন্দারান এবং গোলেস্তান প্রদেশে ঘন বন, ঝর্ণা, চা বাগান ও ধানের খেত বিস্তৃত:
হিরকানিয়ান বন ২৫ মিলিয়ন বছরের পুরনো। এখানে বিরল বন্যপ্রাণী যেমন পার্সিয়ান চিতা দেখা যায়।
বনাঞ্চলে হাইকিং, পাখি পর্যবেক্ষণ ও প্রকৃতি ফটোগ্রাফির জন্য এটি স্বর্গসদৃশ স্থান।
শান্ত হ্রদ এবং জলাভূমি
ইরানের জলাভূমিগুলোও বিশেষ আকর্ষণীয়:
জারিবার হ্রদ পশ্চিম জাগরোস পর্বতের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক রত্ন।
লেক তার মাউন্ট দামাভানের কাছে, ৩,০০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত।
এই হ্রদগুলো হাইকিং এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য চমৎকার।
সৈকত এবং দ্বীপ
ইরানের সৈকত ও দ্বীপগুলোও বৈচিত্র্যময়:
কাসপিয়ান সাগর সূর্যস্নান ও সাঁতার উপভোগের জন্য উপযুক্ত।
হরমুজ দ্বীপ লাল সৈকত ও রঙিন চূড়ার জন্য বিখ্যাত।
কেশ্ম দ্বীপ অনন্য পাথুরে গঠন, ‘ভ্যালি অফ স্টারস’ এবং হারা ম্যাংগ্রোভ বনসহ সমুদ্র জীববৈচিত্র্য উপভোগের জন্য আদর্শ।
নদী, উপত্যকা এবং ঝর্ণা
ইরান জুড়ে রয়েছে নদী, উপত্যকা এবং ক্যানিয়ন:
লোরেস্তান প্রদেশের শিরেজ ক্যানিয়ন গভীর, বাঁকানো উপত্যকা হিসেবে পরিচিত।
কারুন নদী (দক্ষিণ-পশ্চিম) এবং জায়ান্দেহ রূদ (কেন্দ্রীয় অঞ্চল) প্রাকৃতিক ঝর্ণার জল সরবরাহ করে।
ঋতুভেদী বৈচিত্র্য
ইরানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো ঋতুভেদী বৈচিত্র্য:
শীতকালে পাহাড়ের ঢালগুলো স্কি রিসর্টে রূপান্তরিত হয়।
বসন্ত ও গ্রীষ্মে পাহাড়গুলো হ্রদ, ঝর্ণা এবং বন্যফুলে ভরে ওঠে।
উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টি বনাঞ্চলে প্রাণ জোগায়, মরুভূমি অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার থাকে।
প্রকৃতিপ্রেমীরা প্রায় যেকোনো সময় ইরান ভ্রমণ করতে পারেন। বিশেষ করে বসন্ত ও শরৎ হাইকিং এবং বাইরের কার্যকলাপের জন্য উপযুক্ত।
তথ্যসূত্র: তেহরান টাইমস
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।