গণভোটে জনসচেতনতা তৈরিতে সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তার পরামর্শ গভর্নরের
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:০৯
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) গণভোট ইস্যুতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য সহায়তা চাইলে ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘ব্যাংকার্স সভায়’ এই পরামর্শ দেন গভর্নর। বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনসহ একাধিক ব্যাংকের এমডি বক্তব্য দেন। এ সময় দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের আলোচ্য সূচিতে নির্দিষ্ট কোনো বিষয় উল্লেখ না থাকলেও ‘গভর্নর কর্তৃক সরাসরি উপস্থাপিত হবে’— এমন একটি এজেন্ডা ছিল। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক এমডি জানান, গভর্নর নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে গণভোট বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা সবার দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকেও ভূমিকা রাখতে হবে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। সে কারণে কোনো এনজিও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিলে ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তহবিল ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন গভর্নর। তিনি জানান, ডলার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৩৭৫ কোটি ডলারের বেশি কেনার বিপরীতে বাজারে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সতর্কতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার ব্যবহার ঠেকাতে আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) নগদ লেনদেনের তদারকি জোরদার করেছে। গত বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার বেশি যে কোনো লেনদেনের তথ্য মাসিকের পরিবর্তে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। একটি সপ্তাহ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ তথ্য জমা দিতে হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমতে শুরু করেছে। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমে মোট ঋণের ৩০ শতাংশে নেমেছে। তিন মাস আগে, গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আদায় জোরদারের মাধ্যমে আগামী মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গভর্নর বলেন, বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়েছে এবং ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে। রমজান ও দুই ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে রেমিট্যান্সের কোনো ধরনের অপব্যবহার যেন না হয়, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে বলেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে কীভাবে লাভজনকভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, বৈঠকে গভর্নর খেলাপি ঋণ কমানো, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা ও বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।