বৃহঃস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছেন ইউরোপীয় সংসদের ৭ সদস্য

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:৩২

সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় সংসদের (ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট) ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দৈনিক কালবেলা।

সূত্র জানায়, ইউরোপীয় সংসদের সদস্যরা (এমইপি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। তারা ইইউর মূল পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনের আগ মুহূর্তের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল সংকলন প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রতিনিধি দলের আগমনকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় সংসদ সদস্য ইভার্স ইজাবস। তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের কোর টিম ইতোমধ্যে ঢাকায় কাজ করছে। এ ছাড়া গত ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের ৬৪ জেলায় মোতায়েন রয়েছে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক। নির্বাচনের ঠিক আগে আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসে ভোটের দিন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থানকালে প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করবে। পাশাপাশি তারা নির্বাচনী প্রচারণার স্বাধীনতা, ভোটারদের অংশগ্রহণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ভোটার দমনের অভিযোগগুলো মূল্যায়ন করবে। নির্বাচন শেষে তারা ইইউর প্রাথমিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ প্রদান করবেন।

ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেখতে চায়। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি। বিশেষভাবে নারী, সংখ্যালঘু, নৃগোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ইইউ।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটির নির্বাচন অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে ইইউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করছে না। প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় হলেও দলটির অনুপস্থিতি নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতা ও ভোটার টার্নআউটে প্রভাব ফেলছে কি না—তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইইউর পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে, ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top