দায়িত্বগ্রহণের পর জোহরান মামদানি সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৪৮
৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ বেশ সতর্ক ও পরিমিত পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় কট্টর প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত হলেও মেয়র হিসেবে তিনি অনেক ক্ষেত্রেই কৌশলী ও আপসকামী অবস্থান নেন।
জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর মামদানি গ্রাসি ম্যানশনে (মেয়রের সরকারি বাসভবন) উঠেছেন এবং নগরীর দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি আবাসন নির্মাণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং নতুন গণশৌচাগার স্থাপনের মতো জনহিতকর উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাজেটের ঘাটতি তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির চলতি অর্থবছরে ২ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এই আর্থিক বাস্তবতা সামাল দিতে গিয়ে মামদানিকে তার উচ্চাভিলাষী সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে কিছুটা ছাড় দিতে হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে মামদানির ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ক। অতীতে নিউইয়র্কের মেয়র ও গভর্নরের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক থাকলেও মামদানি তা এড়াতে পেরেছেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ‘ইউনিভার্সাল চাইল্ড কেয়ার’ নিশ্চিত করতে তিনি গভর্নরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী যোগাযোগ বজায় রাখাও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অবাক করেছে।
পুলিশি কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রেও মামদানিকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অতীতে নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) কড়া সমালোচক হলেও তিনি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে দায়িত্বে রাখেন এবং সাম্প্রতিক কিছু পুলিশি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যু এবং অ্যান্টিসেমিটিজম নিয়ে প্রাথমিক নীরবতার পর তিনি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানি দ্রুত ভুল সংশোধন করে বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন, যা একজন নতুন মেয়র হিসেবে তার পরিণত কৌশলের প্রকাশ।
সূত্র: সিএনএন
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।