লুনার নিউ ইয়ারে চীনে জনস্রোত, বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভ্রমণ উৎসব শুরু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:০১
চীনে শুরু হয়েছে চন্দ্রবর্ষ বা লুনার নিউ ইয়ার। দেশটির সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ঘিরে আবারও দেখা দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বার্ষিক মানব স্থানান্তর—চীনা ভাষায় যার নাম ‘চুনইউন’। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে নববর্ষ উদ্যাপনে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছেন কোটি মানুষ। কেউ ফিরছেন শেকড়ে, কেউবা দীর্ঘ ছুটি কাজে লাগিয়ে ঘুরতে যাচ্ছেন দেশি-বিদেশি গন্তব্যে।
এবারের উৎসবের বিশেষ দিক হলো সরকারি ছুটি এক দিন বাড়িয়ে মোট নয় দিন করা হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে দেখা দিয়েছে বাড়তি চাপ। পর্যটন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দক্ষিণাঞ্চলের উষ্ণ দ্বীপপ্রদেশ হাইনান এখন দেশীয় পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। সমুদ্রসৈকত ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে হোটেল বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চাংবাই পাহাড় তুষারক্রীড়া প্রেমীদের ভিড়ে মুখর। বরফঢাকা প্রাকৃতিক দৃশ্য আর স্কি রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

বিশাল এ জনস্রোত সামাল দিতে রেল, সড়ক ও আকাশপথে বাড়তি ট্রেন ও ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতার বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সময়টি।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও চীনা নাগরিকদের আগ্রহ বাড়ছে। জনপ্রিয় গন্তব্যের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। সম্প্রতি ভিসা–সহজীকরণের ফলে রাশিয়া নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করেছে চীনা পর্যটকদের কাছে। তবে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাবে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গন্তব্য জাপানে ভ্রমণের আগ্রহ তুলনামূলক কমেছে বলে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।

অন্যদিকে বিদেশি পর্যটক টানতেও উদ্যোগী হয়েছে বেইজিং। বিশ্বের ৪৫টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশসহ নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকেরা এখন আগাম ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন চীনে অবস্থান করতে পারবেন। এতে পর্যটন বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।