গিনেস রেকর্ডে জায়গা পেল চীনে পাওয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ডাইনোসরের ডিম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৫
কল্পনাকেও হার মানানো এক বিস্ময়কর আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকৃতির একটি ডাইনোসরের ডিম খুঁজে পেয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তারা।
চীনের গাঞ্জো বেসিন এলাকায় পাওয়া এই ডিমের জীবাশ্মটি প্রায় আট কোটি বছর আগের ক্রিটেসিয়াস যুগের বলে জানা গেছে। আকারে মাত্র ২৯ দশমিক ৯৩ মিলিমিটার হওয়ায় এটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ডাইনোসরের ডিম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
এর আগে জাপানে পাওয়া ৪৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের একটি ডিম দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্রতম হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন এই আবিষ্কার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
চীনা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তিন বছরের গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন এটি একটি নতুন প্রজাতির ডিম। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াংসি ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইনস্টিটিউট এবং উহানের ভূবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। তারা এই প্রজাতির নাম দিয়েছেন ‘মিনিওলিথাস গাঞ্জোহুয়েনসিস’।
ডিমটির প্রকৃতি নির্ধারণে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে খোসার ভেতরের সূক্ষ্ম গঠন বিশ্লেষণ করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি উড়তে অক্ষম থেরোপড শ্রেণির ডাইনোসরের ডিম।
গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল আন্তর্জাতিক একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গাঞ্জো বেসিন এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ডাইনোসরের ডিমের জীবাশ্মের জন্য সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে নিয়মিত পাওয়া জীবাশ্মগুলো প্রাচীন প্রাণিজগত সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এত ছোট ডিম কোনো ডাইনোসরের হতে পারে—একসময় তা অবিশ্বাস্য মনে হলেও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, ডাইনোসরদের আকার ও গঠনে ছিল ব্যাপক বৈচিত্র্য।
তারা আরও বলছেন, এই আবিষ্কার ডাইনোসরদের প্রজনন পদ্ধতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে নতুন গবেষণার দুয়ার খুলে দেবে।
জীবাশ্মবিদদের ধারণা, গাঞ্জো বেসিনের মতো এলাকাগুলোতে এখনও লুকিয়ে আছে বহু অজানা ইতিহাস, যা ভবিষ্যতে আরও চমক নিয়ে আসতে পারে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।