বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ডেটিং সাইট ও অ্যাপে ‘সুগার ড্যাডি’ খুঁজছেন ট্রাম্প প্রশাসন কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সন্ত্রাসবিরোধী শাখার এক ঊর্ধ্বতন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বিত্তবান পুরুষ (সুগার ড্যাডি) খোঁজার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ বছর বয়সী ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জুলিয়া ভারভারো অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বয়স্ক ও ধনী পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতেন।

বুধবার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ বিষয়ে এক ব্যক্তি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিদর্শক জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী ব্যক্তি, যাকে প্রতিবেদনে “রবার্ট বি” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেন যে হিঞ্জ নামের একটি ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর জুলিয়া ভারভারোর সঙ্গে তার তিন মাস সম্পর্ক ছিল। এই সময়ে তিনি প্রায় চল্লিশ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের উপহার ও ভ্রমণ ব্যয় বহন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, “সিকিং ডট কম” নামের একটি বিতর্কিত ডেটিং সাইটে “আলেসিয়া” ছদ্মনামে ভারভারোর একটি প্রোফাইল পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি নিজেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও অভিজাত জীবনযাপনের অধিকারী হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

রবার্ট বি-র অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জুলিয়ার অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার অর্ধেক পরিশোধ করতেন এবং তাকে আরুবা, সুইস আল্পস ও ইতালির মতো ব্যয়বহুল স্থানে ভ্রমণেও নিয়ে গেছেন। এছাড়া কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের গয়না ও দামি ব্যাগসহ নানা বিলাসবহুল উপহারও দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, জুলিয়া নিজেকে “বস প্রিন্সেস” হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং আইনকানুন বা শৃঙ্খলার ঊর্ধ্বে বলে দাবি করতেন। এমনকি তারা একসঙ্গে গাঁজা সেবন করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জুলিয়া ভারভারো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার নামে কোনো ডেটিং প্রোফাইল নেই। তার ভাষায়, একজন প্রাক্তন সঙ্গী তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।

তদন্তকারীরা এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও ছবির মিল যাচাই করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top