হত্যার আগে চ্যাটজিপিটিতে লাশ গুমের উপায় জানতে চান অভিযুক্ত হিশাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ ঘটনাটির আগে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের কাছে লাশ গোপনের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন।
আদালতের নথির বরাত দিয়ে দেশটির একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত জানতে চান কাউকে কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে। জবাবে সেটিকে বিপজ্জনক বলা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, তদন্তকারীরা কীভাবে বিষয়টি জানতে পারে।
২৬ বছর বয়সী হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিহত লিমন তার রুমমেট ছিলেন। গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত নথি অনুযায়ী, ঘটনার কয়েকদিন পর অভিযুক্তকে অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে কিছু বাক্স ফেলতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় লিমনের শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র ও ব্যাংক কার্ড। পাশাপাশি একটি পোশাক ও রান্নাঘরের মাদুরে পাওয়া ডিএনএ নমুনা নিহত দুজনের সঙ্গে মিলে যায়।
এরপর একটি সেতুর পাশ থেকে ভারী প্লাস্টিকের ব্যাগে লিমনের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জানা যায়, ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বৃষ্টিকেও মৃত বলে ধারণা করছে তদন্তকারীরা।
তল্লাশির সময় আরও কিছু মানবদেহের অংশ উদ্ধার হলেও সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রথমে অভিযুক্ত দাবি করেন, তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে অন্য একটি এলাকায় নামিয়ে দিয়েছিলেন। তবে মোবাইলের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ও নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তার গাড়ি দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থান করছিল।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার রাতে তিনি বড় আকারের প্লাস্টিক ব্যাগ, পরিষ্কারক ও সুগন্ধি স্প্রে কিনেছিলেন। তার বাসা থেকেও রক্তের দাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ বৃষ্টির কিছু ব্যক্তিগত সামগ্রী ফেলে দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তের হাতে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, রান্নার সময় দুর্ঘটনাবশত এসব জখম হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পেয়েছেন।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা ছাড়াও নির্যাতন, অবৈধভাবে আটক, মৃত্যুর তথ্য গোপন, মরদেহ সরানো ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি জামিন ছাড়াই কারাগারে আটক রয়েছেন। শিগগিরই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীই ছিলেন মেধাবী গবেষক এবং তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সূত্র: এনবিসি নিউজ, সিএনএন
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।