সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে এইডস সংক্রমণে বাড়ছে সমকামী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০২

ছবি: সংগৃহীত

দেশে এইডসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই সমকামী এবং এই গোষ্ঠীর আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সব স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে উদ্বেগজনক।

তথ্য অনুযায়ী, সমকামী আক্রান্তদের মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছর, ৩১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর এবং বাকি ৪৮ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের বেশি। অন্যদিকে অন্যান্য আক্রান্তদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন, যাদের অনেকেই দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করেছেন।

রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত বছরে সেখানে ২৯৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। চলতি বছরে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। শনাক্তদের প্রায় ৭০ শতাংশই সমকামী। এর পরেই অবস্থান করছে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল।

ওই হাসপাতালে ২৫ শয্যার একটি বিশেষ ইউনিটে বর্তমানে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে ১০ জন নতুন রোগী এইডসজনিত জটিলতা নিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালে সেখানে ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষায় ২৭২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়, যার মধ্যে ১১৭ জন সমকামী এবং তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আগে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি থাকলেও এখন সমকামীদের মধ্যে তা দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর বাইরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১ হাজার ২৪১টি পরীক্ষায় ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন সমকামী এবং তাদের মধ্যে আটজনই শিক্ষার্থী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমকামী আক্রান্তদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সংক্রমণের উৎস চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির এক কর্মকর্তা জানান, আগে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি থাকলেও এখন তা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে সমকামী জনগোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইডসে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এ রোগ নতুন নয় ১৯৮৫ সালে প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয় এবং ১৯৮৯ সালে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। পরে ধাপে ধাপে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top