বিসিবিতে অস্থিরতা, চেয়ার আঁকড়ে থাকার আশা সভাপতি বুলবুলের
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৪
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) চলমান অস্থিরতার মধ্যে একে একে সাত পরিচালকের পদত্যাগে চাপের মুখে পড়েছেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, শেষ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার রাতে এক বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুলবুল বলেন, “আমি আমার চেয়ারে থেকে যতটুকু পারি কাজ করব, সবার শেষে বের হব।” তিনি জানান, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই অবস্থানে রয়েছেন এবং দেশের ক্রিকেটের সেবা করে যেতে চান।
বোর্ডের সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে রয়েছে নির্বাচনের পর থেকেই তৈরি হওয়া বিভাজন। ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে নির্বাচিত মঞ্জুরুল আলম-সহ কয়েকজন পরিচালক, যারা আগে বুলবুলের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ছিলেন, তারাও পদত্যাগ করেছেন। এতে সভাপতির প্রতি অনাস্থার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত এবং ধারাবাহিক পদত্যাগে বুলবুলের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বোর্ডে এখনো ১৮ জন পরিচালক থাকলেও ন্যূনতম কোরাম পূরণ হওয়ায় কমিটি কার্যকর রয়েছে।
বিসিবির অভ্যন্তরে নানা গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-এর সঙ্গে বুলবুলের ঘনিষ্ঠতা এবং নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তামিম ইকবাল-এর নাম জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত হয়নি।
বোর্ডে বর্তমানে বুলবুলপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন পরিচালক রয়েছেন, যেমন খালেদ মাসুদ পাইলট, আব্দুর রাজ্জাক, নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ আরও অনেকে। তাদের সমর্থন নিয়েই টিকে থাকার চেষ্টা করছেন সভাপতি।
অন্যদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি-এর সম্মতি নিয়ে বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে অস্থায়ী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করে নতুন নির্বাচন আয়োজনের কথাও আলোচনায় আছে।
পদত্যাগ করা কয়েকজন পরিচালক অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে অনিয়ম ও বোর্ডে উপেক্ষিত হওয়ার কারণেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। একই সঙ্গে ভয়ভীতি ও প্রলোভনের কথাও উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ।
সব মিলিয়ে, বিসিবিতে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই বুলবুল প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন—টেস্ট ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক, আঞ্চলিক কমিটি গঠন এবং নতুন নিয়োগসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও আসন্ন সিদ্ধান্তের ওপর।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।