আপেলের চেয়েও দামি পাহাড়ি বুনোফল ‘রসকো’, কেজি ৫০০ টাকা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮
পার্বত্য চট্টগ্রামের বনজ সম্পদের ভাণ্ডারে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সুস্বাদু বুনোফল রসকো বা রক্তফল। টক-মিষ্টি স্বাদের লাল রঙের এই ফল এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, যা আমদানিকৃত আপেলের চেয়েও বেশি।
জানা গেছে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে রসকো। পাহাড়ি বনাঞ্চলের লতানো গাছে থোকা থোকা ধরে এই ফল। পাকার পর এর রঙ হয় টকটকে লাল বা সিঁদুরে। ফলের ভেতরে গাঢ় লাল রস থাকায় একে ‘রক্তফল’ বা ‘রক্তগোটা’ও বলা হয়। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছে এর ভিন্ন নাম রয়েছে—চাকমা ভাষায় ‘রসকো’, ত্রিপুরা ভাষায় ‘তাইথাক’ এবং মারমাদের কাছে ‘লস্কর’।
রসকো মূলত রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার পাহাড়ি বন ও ঢালে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। মার্চ থেকে মে—এই সময়েই বেশি পাওয়া যায়। পাকা ফল সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি ভর্তা বা জ্যাম হিসেবেও জনপ্রিয়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাঙ্গামাটি শহর-এর বনরূপা, রাজবাড়ী, কল্যাণপুর, কলেজগেট ও তবলছড়ি বাজারে সাপ্তাহিক হাট ছাড়াও নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে এই ফল। আকারভেদে দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত।
বনরূপা বাজারের বিক্রেতারা জানান, আগে পাহাড়ে প্রচুর রসকো পাওয়া গেলেও এখন গাছ কমে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে সমতল এলাকার ক্রেতাদের মধ্যে।
রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এখনো এ ফল নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি। তবে পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া রসকো চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাষের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরাও ধীরে ধীরে রসকো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ বাড়ির পাশে বীজ রোপণ করে লতা তৈরি করে ইতোমধ্যে ভালো আয় করছেন। দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এই লতা বড় গাছের ওপর ভর করে বেড়ে ওঠে এবং বছরের পর বছর ফল দেয়।
কৃষি বিভাগ জানায়, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফলে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন এ, সি ও বি-৬। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি রক্তশূন্যতা দূর করতে সহায়ক এবং কিছু ভেষজ গুণও রয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।