স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জমজমাট ‘মেলা মিতালি’ আয়োজন
ওয়াসিমুল বারী সিয়াম | প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৩
সেদিন ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল ভিন্ন এক আবহ। হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল হাসি, রঙ আর সহপাঠীদের প্রাণচাঞ্চল্য। “ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ খেলায়, আসুন সবাই মিতালি মেলায়”—এই আহ্বানকে সামনে রেখে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোক্তা মেলা ‘মেলা মিতালি’। আনন্দ, বন্ধুত্ব ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা ভাবনাকে উদযাপনের এক রঙিন আয়োজন হয়ে ওঠে এ মেলা।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের তেঁতুলতলা গার্ডেন ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত উৎসব প্রাঙ্গণে। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের (জেআরএন) ৮৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা ক্লাসরুমের পাঠকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে, যেখানে শেখা ও স্বপ্ন হাত ধরাধরি করে এগিয়ে চলে।

মেলাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী আব্দুল মান্নান, রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল মতিন, সহযোগী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানা, সামিয়া আসাদী, শবনম জান্নাত, প্রভাষক সোহেল হোসেন, ফরিশতা সিদ্দিকী, ফারিয়া জাহান এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রদীপ্ত মোবারকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

‘মেলা মিতালি’তে মোট পাঁচটি স্টল অংশ নেয়, প্রতিটি স্টলই ছিল ভিন্ন ভাবনা ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন। ‘টাঁলক’ নামের হ্যান্ডিক্রাফটস স্টলে মাটি, কাঠ ও সুতার মতো প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হাতে বানানো জুয়েলারি, কাস্টমাইজড আনুষাঙ্গিক, ক্যানভাস, সরা, ছাতা ও সানগ্লাস প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়—যা পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও বহন করে।

‘অলকানন্দা’ স্টলে ছিল নারীদের দেশীয় পোশাকের সমাহার—শাড়ি, থ্রিপিস, হাতে আঁকা পোশাক ও এমিটেশন জুয়েলারি। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে স্টলটি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ কাড়ে।
এছাড়া পরিবেশবান্ধব ভাবনায় একটি ডিক্লাটার স্টল পুনঃব্যবহার ও রিসাইক্লিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতার বার্তা দেয়।

খাবারের জন্য ছিল দুটি ভিন্নধর্মী স্টল। ‘কিচেন কর্নার’ স্টলে ঝালমুড়ি, পুডিং, সিঙারা, রোল, ডিম চপ, সসেজ স্যুপ ও স্যান্ডউইচসহ নানা ফাস্টফুড পরিবেশন করা হয়, যেখানে দিনভর ছিল ক্রেতাদের ভিড়। অন্যদিকে ‘হাটবাজার’ স্টল গ্রামীণ খাদ্য সংস্কৃতির স্বাদ তুলে ধরে ভর্তা স্টাইলে পরিবেশিত পেয়ারা, আনারস ও বড়ই দিয়ে দর্শনার্থীদের মন জয় করে।

মেলার আরেকটি আকর্ষণ ছিল এর সাজসজ্জা। পুরো আয়োজনটি সিসিমপুর থিমে সজ্জিত হওয়ায় তৈরি হয় রঙিন ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ, যা বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিষয়াবলি কোর্সের অংশ হিসেবে সহকারী অধ্যাপক তানিয়া সুলতানার তত্ত্বাবধানে প্রতিবছরই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উদ্যোক্তা মনোভাব, দলগত কাজ ও বাস্তব বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পায়। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিকেল ৫টায় শেষ হয়। মেলা শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের শিক্ষাভিত্তিক আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।