মেনুতে গরুর মাংস বাদ দেওয়ায় ঢাবির ইফতার বয়কটের ডাক শিক্ষার্থীদের
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭
পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক ইফতারের আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘদিনের প্রচলিত মেনু থেকে গরুর মাংস বাদ দিয়ে মুরগির পদ সংযোজনের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে ইফতার বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) রাতে প্রভোস্ট স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী ৪ মার্চ অনুষ্ঠেয় ইফতারের মেনু চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে জানানো হয়, এবার ইফতারে গরুর মাংস রাখা হচ্ছে না; তার পরিবর্তে থাকবে মুরগির পদ।
সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী ৪ মার্চের ইফতারের টোকেন নিয়ে তা ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান। কেউ কেউ একে ‘খয়রাতি ইফতার’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং বিকল্পভাবে গরুভোজের আয়োজনের ডাক দেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের ন্যায্য প্রত্যাশা ও দাবিকে উপেক্ষা করেই প্রশাসন একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ বলেন, ডিনস কমিটি ও প্রভোস্ট স্থায়ী কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি গুরুত্ব পায়নি। রমজানে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের দাবি এবং ইফতারে গরুর মাংস সংযোজনের প্রস্তাবও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়েরের মতে, বিষয়টি অনেকের কাছে তুচ্ছ মনে হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, উপমহাদেশে গরুর মাংস অনেক সময় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে।
ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, গত বছরগুলোতে গরুর মাংস পরিবেশন করা হলেও নতুন প্রশাসন তা বাদ দিয়ে মুরগির পদ সংযোজন করেছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের পক্ষ থেকে লিখিত আপত্তি জানানো হলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রভোস্টরা জানিয়েছেন—এটি তাদের একক সিদ্ধান্ত নয়; প্রভোস্ট স্থায়ী কমিটির মাধ্যমেই বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পুনরায় দাবির পরও ভার্চ্যুয়াল সভায় আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, অধিকাংশ হল পূর্বনির্ধারিত মেনু অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অগ্রিম অর্থ দিয়ে পণ্য কেনা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে এখন মেনু পরিবর্তন সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ হলের ছাত্র সংসদের আপত্তি ছিল না যদি সব হলে একই মেনু রাখা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পূর্বনির্ধারিত মেনুই বহাল রাখা হয়েছে। তবে আগামী পহেলা বৈশাখে গরুভোজের আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইফতারের মেনু ঘিরে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রভোস্ট স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের একাংশ ইফতার বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।