কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের শিক্ষক রাজনীতির আভাস, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিলুপ্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সমিতির কার্যক্রম চালুর এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন শিক্ষকদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠান। এতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া ও মৌলিক অধিকার আদায়ে সমস্যা হচ্ছে। সেইসাথে আগামী ২ মার্চ শিক্ষক লাউঞ্জে এক মতবিনিময় সভার আহ্বান জানানো হয়।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের অভিযোগ, অতীতে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কুবির কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন সমিতি গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ ফয়সাল লিখেছেন, শিক্ষক সমিতির কারণে অতীতে দীর্ঘ সময় একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একই শিক্ষাবর্ষের নাঈম ভুঁইয়া বলেন, একাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
সর্বশেষ শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪। ওই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি নীল প্যানেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সভাপতি নির্বাচিত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক হন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।
নির্বাচনের দিনই নবনির্বাচিত কমিটি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে উপাচার্য দপ্তরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়ন শুরু হয়। মার্চ মাসে সাত দফা দাবিতে একাধিকবার কর্মবিরতি ও ক্লাশ বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই দ্বন্দ্ব ২৩ জুন পর্যন্ত চলেছিল, যা প্রায় সাড়ে তিন মাস একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত করে।
তারপর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা সমিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে কমিটি বিলুপ্ত রয়েছে। কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় আমি শিক্ষকদের মতামত জানার জন্য সভার আহ্বান করেছি। প্রয়োজনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে পরে নির্বাচন করানো হবে।”
অন্যদিকে সাবেক সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, “জেনারেল মিটিংয়ের মাধ্যমে ৫ আগস্টের পর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন সমিতি গঠনের জন্য শিক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে তলবি সভা ডাকা যেতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন বা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা সম্ভব।”
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অতীতে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত সাদা প্যানেল কখনো জয়ী হয়নি। এবার নতুন সমিতি গঠন ও সম্ভাব্য নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।