রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: ছাত্র সংগঠনগুলোর গভীর শোক, বিচার দাবি

ইবি প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩:২৮

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালমের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির অফিসকক্ষে সাবেক এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ড. আসমা সাদিয়া রুনা। তার মৃত্যুর খবরে পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড শুধু একজন শিক্ষিকার মৃত্যু নয়, বরং শিক্ষকতার মহান আদর্শ ও মূল্যবোধের ওপর চরম আঘাত।”

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের পবিত্র কেন্দ্র। সেখানে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন যদি ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাদীয়া মাহমুদ মীম বলেন, “একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত ক্ষোভের এমন ভয়াবহ রূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জ্ঞানচর্চার পবিত্র অঙ্গনে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শাখা ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক তানিম তানভীর বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা ও মানবিকতার স্থান। সেখানে এমন বর্বরোচিত ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের তথ্য-গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক শাহ নেওয়াজ সুজন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মহত্যাচেষ্টা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার কোনো অপকৌশল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

খেলাফত ছাত্র মজলিসের প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুনায়েদ বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। অভিযুক্তের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

ছাত্র সংগঠনগুলো মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচার দাবি করে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান সহকারী অধ্যাপক ড. আসমা সাদিয়া রুনার গলায় ছুরিকাঘাত করেন। পরে তিনি নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল–এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ড. আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে অভিযুক্ত ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান আগে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। বদলির আগে তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও আচরণে পরিবর্তন না হওয়ায় তাকে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। এ কারণেই ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ–এ জানাজা শেষে তাকে কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top