বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সুজন মাহমুদ | প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৩

চরাঞ্চলে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ । ছবি: সুজন মাহমুদ

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী প্রচারণা চালাচ্ছেন একদল তরুণ।

 সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকল থেকে বিকাল পর্যন্ত দুর্গম চর, কাঁচা রাস্তা এবং সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উপেক্ষা করে তারা গ্রাম থেকে গ্রামে, কৃষকের মাঠে, শ্রমিকের কর্মস্থলে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

প্রচারণায় তরুণরা সহজ ভাষায় বোঝাচ্ছেন গণভোট কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এটি সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। তারা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, এই উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে মানুষকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার প্রয়াস। পোস্টার, লিফলেট এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

শ্রমিকের কর্মস্থলে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন

উদ্যোক্তাদের মধ্যে মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন। গণভোট সেই দূরত্ব কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি কোনো দলের জন্য নয়, বরং আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। চরাঞ্চলের মানুষের একটি ভোটও সমান মূল্যবান, এই বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই।”

অপর উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম জানান, “অনেকেই গণভোট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তাই শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রচারণা নয়, মানুষের কাছে গিয়ে মুখে-মুখে বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে বসে কথা বললে তারা খুব দ্রুত বুঝতে পারেন। যখন তারা জানতে পারেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে সম্মতি তখন তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।”

সুজন মাহমুদ বলেন, “এই উদ্যোগ তরুণদের হলেও লক্ষ্য সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করা। হেঁটে, ভ্যানে এবং মোটরসাইকেলে করে দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে আমরা প্রচারণা চালাচ্ছি। আমরা চাই মানুষ ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করুক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষও এই প্রচারণার ফলে গণভোটের গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছেন। রাজিবপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমরা মাঠে কাজ করি, বড় সিদ্ধান্তের কথা অনেক সময় বুঝি না। এই তরুণরা এসে সহজ করে বুঝিয়েছে গণভোট কী। এখন মনে হচ্ছে, আমার একটি ভোটও দেশের জন্য দরকার।”

এক দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা কোনো দলের ভোট নয়, এই কথাটাই আমাদের ভালো লেগেছে। যদি এতে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”

স্থানীয় নৌকার মাঝি মজনু মিয়া যোগ করেন, “চরাঞ্চলের মানুষ প্রায়ই মূলধারার আলোচনার বাইরে থাকে। গণভোট সম্পর্কে আগে তেমন জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি, এতে অংশ নিলে আমাদের কথাও রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাবে।”

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, রাজিবপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় এই প্রচারণা কেবল ভোট আহ্বান নয়, বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার একটি সচেতনতা আন্দোলন। আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষ সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top