চট্টগ্রাম বন্দরের
এনসিটি ইজারা সিদ্ধান্তে আন্দোলন: আরও ৭ কর্মচারী বদলি, আজও কর্মবিরতির ঘোষণা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৩
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও সাত কর্মচারীকে ঢাকায় বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে দুই দিনে মোট ১১ জন কর্মচারীকে বদলি করা হলো। একই সঙ্গে ইজারা সিদ্ধান্ত ও বদলির প্রতিবাদে আজ সোমবার পুনরায় কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মবিরতি পালিত হলেও এবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’–এর ব্যানারে। অন্যদিকে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে। বন্দরের প্রবেশমুখ ও কাস্টমস মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের সই করা এক আদেশে নতুন করে সাত কর্মচারীকে বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয়, জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল প্রয়োজনের কারণে এ বদলি। সংশ্লিষ্টদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে চারজনকে ঢাকার কমলাপুর কনটেইনার ডিপো এবং তিনজনকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে পদায়ন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন,
“আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে একের পর এক কর্মচারীকে বদলি করা হচ্ছে। ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল ও বদলির আদেশ প্রত্যাহার না করলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।”
এর আগে টানা দুই দিনের কর্মবিরতির ফলে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে বিকেল ৪টার পর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
পোর্ট ও শিপিং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনে জড়িত অভিযোগে প্রায় ১৮০ শ্রমিক-কর্মচারীর একটি তালিকা তৈরি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চার নেতাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন,
“এই তালিকাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। খুব শিগগির নির্বাচিত সরকার এলে বিষয়টি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এটি বিনা দরপত্রে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—যা নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো ধারাবাহিক আন্দোলন করছে।
শনিবার রাত থেকে ৩০ দিনের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ করেছে সিএমপি। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম বলেন,
“চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা পুলিশের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা ইব্রাহিম খোকন দাবি করেন,
“শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালন করছেন, কিন্তু ধর্মঘট ঠেকাতে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।”
পরিস্থিতি ঘিরে বন্দর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, আর কর্মসূচি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেদিকেই নজর সবার।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।