সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

দৈনন্দিন ৭ অভ্যাস যা ঘুমের ‘বারোটা বাজাচ্ছে’

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৫

ছবি: সংগৃহীত

শুধু আরামের জন্য নয়, ভালো ঘুম শরীর ও মনের সুস্থতার ভিত্তি। কিন্তু অনেকেই এমন কিছু অভ্যাসের দিকে অনিচ্ছাকৃতভাবে নজর না দিয়ে চলেন, যা ধীরে ধীরে ঘুমের মান নষ্ট করে দেয়। এসব ভুল অভ্যাস একদিনে সমস্যা তৈরি না করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনিদ্রা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আজকের প্রতিবেদনে জানুন, প্রতিদিনের কোন অভ্যাসগুলো আপনার ঘুমের ‘বারোটা বাজাচ্ছে’।

১. নির্দিষ্ট সময়ে না ঘুমানো
কখনো রাত ১০টায়, কখনো রাত ১টায় ঘুমানো শরীরের সার্কাডিয়ান রিদমকে বিঘ্নিত করে। ফলে ঘুম আসে দেরিতে, ঘুম ভালো হয় না, আর সকালে উঠে ক্লান্তি এবং সারা দিনের ঝিমুনি থাকে।

২. ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন ঘুম পেতে সাহায্য করে। স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকালে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুমে সমস্যা হয়।

৩. বিছানায় কাজ করা
বিছানায় শুয়ে কাজ করা বা সিরিজ দেখা মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে। ধীরে ধীরে বিছানায় শুলেই ঘুম আসার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।

৪. রাতে ভারী খাবার খাওয়া
দেরিতে, তেল-মসলাদার বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হয়। বুক জ্বালা, অস্বস্তি এবং ঘুম ভাঙার প্রবণতা বাড়ে। ভালো ঘুমের জন্য রাতের খাবার হালকা হওয়া উচিত এবং ঘুমের ২–৩ ঘণ্টা আগে শেষ করা উচিত।

৫. অতিরিক্ত চা-কফি
বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ রাত পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। নিয়মিত এই অভ্যাস ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দেয়।

৬. ছুটির দিনে দেরি করে ওঠা
ছুটির দিনে বেশি ঘুমানোকে অনেকেই ‘ঘুম পূরণ’ মনে করেন। আসলে এতে সপ্তাহের বাকি দিনের ঘুমের ছন্দ এলোমেলো হয়, যা সোশ্যাল জেট ল্যাগের মতো সমস্যা তৈরি করে।

৭. মানসিক চাপ
চিন্তা বা স্ট্রেস নিয়ে বিছানায় গেলে মন শান্ত হয় না। অবচেতন মনে চলতে থাকা চিন্তা রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য ধ্যান, হালকা বই পড়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম সহায়ক।

উপসংহার:
নিয়মিত রুটিন, সচেতন অভ্যাস এবং নিজের শরীরের সংকেত বোঝাই সঠিক ঘুমের মূল চাবিকাঠি। ছোট ছোট ভুল ঠিক করলেই ধীরে ধীরে ঘুমের মান উন্নত হবে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

সূত্র: এই সময়



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top