ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে আটক সোনাগাজীর পিআইও ও কার্য সহকারী
ফেনী প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:৪৩
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পিআইওসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের একটি দল। অভিযানে ঘুষের টাকাসহ আটক হন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল সাঈদ এবং তার কার্য সহকারী আবু নাছের।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার মো. হুমায়ুন কবির রানার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। বিল পরিশোধের বিনিময়ে ওই ঘুষ নেওয়া হচ্ছিল।
দুদক আরও জানায়, ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. হুমায়ুন কবির ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সোনাগাজী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ তিনি সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে চুক্তিপত্র অনুযায়ী সম্পন্ন করেন। কাজ শেষ করে বিল দাখিল করলেও দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ করা হচ্ছিল না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিল পরিশোধের শর্ত হিসেবে পিআইও মো. আল সাঈদ তার কাছে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়। পরে প্রথম কিস্তি হিসেবে এক লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানান অভিযোগকারী। তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি বিষয়টি দুদককে অবহিত করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এক লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় দুদক অভিযান চালিয়ে পিআইও ও তার কার্য সহকারীকে আটক করে।
অভিযান পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ। অভিযানে উপ-সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী ও জাহেদ আলম এবং কোর্ট পরিদর্শক মো. ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার হুমায়ুন কবির রানা আরও অভিযোগ করে জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পিআইও তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এবার ১২ লাখ টাকা দাবি করায় বাধ্য হয়ে তিনি বিষয়টি দুদকের নজরে আনেন।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে দুদক।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।