গাজীপুরে ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা, বড় ভাইসহ গ্রেপ্তার ২
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩৯
গাজীপুরে মোবাইল ফোন কেনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় বড় ভাই ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন।
গ্রেপ্তাররা হলো—নিহত আব্দুর রাহিমের (১৩) বড় ভাই আল আমিন (২৩) এবং তার বন্ধু আশিক আহমেদ (২০)। রাহিম স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ সুপার জানান, বাবার কাছে মোবাইল ফোন কেনার বায়না ধরাকে কেন্দ্র করে গত ১ ফেব্রুয়ারি আল আমিন তার ছোট ভাই রাহিমকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির অদূরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে মারধর করা হয়। পরে রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আল আমিন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আল আমিন তার বন্ধু আশিক ও আরও এক সহযোগীকে নিয়ে জয়দেবপুর থানা এলাকার বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া এলাকায় বাঁশরী রিসোর্ট সংলগ্ন শালবনে রাহিমকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। হত্যার পর রাহিমের জ্যাকেট বড়চালা এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
রাহিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা নুরুল ইসলাম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শালবনের ভেতর থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অর্ধগলিত এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পোশাক দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি রাহিমের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় মঙ্গলবার ভোরে মির্জাপুর এলাকা থেকে আল আমিন ও আশিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।