ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষিকাকে হত্যা, আত্মহত্যার চেষ্টা কর্মচারীর

ইবি প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৬

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)-এর সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিসকক্ষে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। একই কক্ষে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে আত্মহত্যার চেষ্টারত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরএমও ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফজলুর রহমান পূর্বে সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। তার অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বিভাগীয় প্রধান তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। বদলির আগে তাকে একাধিকবার সতর্ক ও সুযোগ দেওয়া হলেও আচরণে পরিবর্তন না আসায় কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।

বদলি মেনে নিতে না পেরে ফজলুর রহমান বারবার সমাজকল্যাণ বিভাগে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। তবে বিভাগীয় সভাপতি তাতে সম্মতি দেননি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আনসার সদস্য জানান, “আমি নিচতলায় ছিলাম। হঠাৎ তিন-চারবার ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনি। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে উপরে গিয়ে দেখি দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে একজন চেয়ার দিয়ে দাঁড়িয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখে বলে, ভেতরে খুন হয়েছে। পরে ছয়জন মিলে দরজা ভেঙে দেখি ম্যাডাম উপুড় হয়ে পড়ে আছেন। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের গলায় ছুরি বসিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।”

ঘটনার পর ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তের অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top