মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৮

ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি গ্যাসপাম্পে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোতাহের নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দগ্ধ বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে আবু তাহের ও আব্দু রহিম মারা যান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মোতাহের। কয়েকদিন ধরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা চললেও বৃহস্পতিবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি মারা যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের একটি তরল গ্যাসপাম্পে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীসহ অন্তত দশজন দগ্ধ হন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শান্তনু ঘোষ জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। গুরুতর আহতদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

এদিকে দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্যাসপাম্পটির বৈধতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্যাসপাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স—কোনোটিই ছিল না।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া আবাসিক ও পর্যটন এলাকায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা পরিচালনার কারণেই বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে নিহতদের পরিবার দ্রুত বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে।

গত রোববার রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এস. এম সাখাওয়াত হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমি উদ্দিন।

তিনি জানান, গ্যাসপাম্পটির মালিক রামু উপজেলার নুর আহমদ সিকদারের ছেলে নুরুল আলম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই গ্যাসপাম্পটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

কক্সবাজার অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গ্যাস বা দাহ্য পদার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ম মেনে পরিচালনা না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস বের হয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বলে তিনি জানান।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top