মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

ইরানে মুদ্রার রেকর্ড দরপতন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গণঅভ্যুত্থান, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন।

প্রথমে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের প্রধান বাজারগুলো থেকে। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে গেলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন। পরদিনই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বড় শহরগুলোতে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৩০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং ৩১ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে শুরু করে।

নতুন বছরের শুরুতেই ১ জানুয়ারি আন্দোলনে প্রথম প্রাণহানির খবর আসে। লরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় অন্তত সাতজন নিহত হয়। ২ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তায় জানান, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। এরপর থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে প্রায় সবকটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জানুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাসী’ হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দেন। এর পর নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

৮ জানুয়ারি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ এবং ইরান হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

১০ জানুয়ারি নাগাদ নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছিল। তবে ১১ ও ১২ জানুয়ারির মধ্যে এই সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন অধিকারকর্মীরা। কিছু সূত্রে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে।

বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ বিভিন্ন শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে আছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এক চরম সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সূত্র: গালফ্ নিউজ



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top