বৃহঃস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২

ভারতসহ সাত দেশ থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

ভারতসহ সাত দেশ থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (গতকাল) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৈঠকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা।

জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, থাইল্যান্ডের ওকিউটি, মালয়েশিয়ার পিটিএলসিএল, ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি

এ ছাড়া বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) থেকে ৭ লাখ টন মারবান গ্রেডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। সৌদি আরামকো থেকে ৮ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট গ্রেডের অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এতে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।

চারটি প্রস্তাবই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান প্রাইম কর্প ওয়ার্ল্ড কোম্পানি এ তেল সরবরাহ করবে।
প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৭ পয়সা, এতে মোট ব্যয় হবে ১৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আসন্ন রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ আমদানি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ হাজার টন মসুর ডাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি সরবরাহ করবে পায়েল অটোম্যাটিক ফুড প্রসেসিং মিলস।
প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ধরা হয়েছে ৭১ টাকা ৮ পয়সা, এতে মোট ব্যয় হবে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

আমদানিকৃত সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।

বৈঠকে আরও সৌদি আরবেরসাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ১৫তম লটে ৪০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রতি টন ৩৯০ ডলার দরে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি পূর্তকাজের প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্পে ৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পূর্তকাজ সম্পাদনে ঠিকাদার নিয়োগের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top