স্বপ্নে সাপ দেখা, ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা ও করণীয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩২
ঘুম মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। দৈনন্দিন ক্লান্তি ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে মানুষ ঘুমের আশ্রয় নেয়। ইসলামেও ঘুমকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী এবং রাত্রিকে করেছি আবরণ” (সুরা নাবা: ৯–১০)।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ ঘুমের সময় এক রহস্যময় অবস্থায় প্রবেশ করে, যেখানে সে স্বপ্ন দেখে। ইসলামে স্বপ্নকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে— আর-রু’ইয়া (ভালো ও সত্য স্বপ্ন), যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কতা হিসেবে আসে এবং আল-হুলম (দুঃস্বপ্ন), যা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
স্বপ্নে সাপ দেখার অর্থ কী?
অনেকেই স্বপ্নে সাপ দেখাকে ভয়ংকর মনে করেন। এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এক আলোচনায় বলেন, স্বপ্নে সাপ বা হিংস্র প্রাণী দেখা কখনো শত্রুতার ইঙ্গিত হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে এসব স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে মানুষকে ভয় দেখানো বা মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্য হয়ে থাকে। কোনো কোনো আলেমের মতে, কালো জাদু বা দুষ্ট জিনের প্রভাবেও এ ধরনের স্বপ্ন দেখা যেতে পারে।
হাদিসে স্বপ্ন সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
হাদিসে এসেছে, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। দুঃস্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে এবং বাম দিকে তিনবার হালকা থুথু ফেলতে বলা হয়েছে (তিরমিজি: ৩৪৫৩)। অপছন্দনীয় স্বপ্ন কারও কাছে প্রকাশ না করারও নির্দেশ রয়েছে (বোখারি: ৬৫৬৮)।
কালো জাদু ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার আমল
আলেমরা অনিষ্ট ও দুঃস্বপ্ন থেকে বাঁচতে কিছু আমলের কথা উল্লেখ করেছেন—
- সকাল-সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ (তিরমিজি: ৩৩৮৮)
- সন্ধ্যায় আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাত দোয়া পাঠ (তিরমিজি: ৩৪৩৭)
- রাসুল (সা.)-এর ওপর জাদুর সময় পড়া ঝাড়-ফুঁকের দোয়া (মুসলিম: ২১৮৬)
- সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পাঠ
- আরোগ্যের নিয়তে সুরা ফাতিহা পাঠ
ইসলামী শিক্ষায় দুঃস্বপ্নকে অতিরিক্ত ভয় না পেয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নিয়মিত আমল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।