১৪ হাজার সাংবাদিকের ‘তথ্য ফাঁস’ অভিযোগে যা বললো ইসি
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৮
সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য কার্ড ইস্যুর উদ্দেশ্যে তৈরি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে সাময়িক সময়ের জন্য আবেদনকারীদের কিছু তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ার ঘটনায় ‘তথ্য ফাঁস’ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ইসি বলছে, এটি প্রকৃত অর্থে কোনো তথ্য ফাঁস নয়।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইসির ওয়েবসাইট থেকে প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার তাদের আবেদন সংক্রান্ত অংশ ওয়েবসাইট থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে শনিবার পর্যবেক্ষকদের আবেদন প্রক্রিয়াও বন্ধ করা হচ্ছিল। এ সময় আগে নিবন্ধন করা কিছু ব্যবহারকারী নিজেদের ড্যাশবোর্ডে লগইন করলে অ্যাডমিন প্যানেলের কিছু অংশ দেখতে পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটি কোনো হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঘটনা নয়। কাজ চলাকালীন সাইট কিছু সময়ের জন্য ওপেন ছিল। এতে নাম, এনআইডি নম্বরের মতো কিছু তথ্য দেখা গেলেও ডাউনলোড করার কোনো সুযোগ ছিল না। কেউ অপকর্মের উদ্দেশ্যে তথ্য নিয়েছে—এমন কোনো অভিযোগও আসেনি।”
ওয়েবসাইটটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে—এমন অভিযোগের জবাবে রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “এটি আমাদের নিজস্ব প্রোগ্রামারদের তৈরি। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি ওয়েবসাইট এআই দিয়ে বানানো হয়নি।”
সম্প্রতি pr.ecs.gov.bd ঠিকানায় ওয়েবসাইটটি চালু করে নির্বাচন কমিশন। প্রথমবারের মতো সাংবাদিক ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনলাইনে আবেদন নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত জটিলতা ও সাংবাদিকদের আপত্তির কারণে কমিশন সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ফলে আগের নিয়মে ম্যানুয়ালি আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসির আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের প্রথমে এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হতো। এরপর নিজস্ব ড্যাশবোর্ডে লগইন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করার নিয়ম ছিল। ইতোমধ্যে অনেকেই আবেদন সম্পন্ন করেছিলেন, সেখান থেকেই তথ্য ফাঁসের অভিযোগের সূত্রপাত।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি সপ্তাহেই সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের পাস ইস্যু করা হতে পারে বলে জানা গেছে। এবারের নির্বাচনে প্রায় সাড়ে ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষক অংশ নিতে পারেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।