আনিসুল হকের সাড়ে চার কোটি টাকার গাড়ির দিকে নজর পুলিশের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬:৫৪

সংগৃহীত

গুলশান থানার প্রবেশমুখে রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা একটি বিলাসবহুল গাড়ি জনসাধারণের দৃষ্টি কেড়েছে। গাঢ় নীল রঙের এই ব্র্যান্ডনিউ গাড়িটি টয়োটার পাজেরো ল্যান্ডক্রুজার ভিএইট (জেডএক্স) মডেল। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় গাড়িটি ধুলোর আচ্ছাদনে ঢাকা পড়েছে। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা মূল্যের এমন রাজকীয় গাড়ি খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জাগে—গাড়িটির মালিক কে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাড়িটির মালিক সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ওই সময় তার ব্যবহৃত এই গাড়িটিও লুকিয়ে রাখা হয়। তবে বেশি দিন পালিয়ে থাকতে পারেননি তিনি। সরকার পতনের আট দিনের মাথায়, ১৩ আগস্ট সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও হাসিনা সরকারের বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও শিল্পপতি সালমান এফ রহমান ছদ্মবেশে নৌপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কোস্ট গার্ড তাদের আটক করে এবং পরে রাজধানীর সদরঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক মন্ত্রীর গাড়িটি ইউনাইটেড হাসপাতালের বেইজমেন্টে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। তবে দরজা লক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটি সরানো সম্ভব হয়নি। পরে কিছুদিন ইউনাইটেড হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

গাড়ির মালিকানা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বিআরটিএতে চিঠি দেয়। জবাবে জানা যায়, গাড়িটি ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর আনিসুল হকের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল এবং চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বৈধতা রয়েছে। এমপি কোটায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করা হয়।

২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর গাড়িটি গুলশান থানার চত্বরে আনা হয়। উদ্ধারকালে গাড়ির ভেতর থেকে দুটি ওয়াকিটকি, ট্যাক্স টোকেন, রেজিস্ট্রেশন কাগজপত্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া ওয়াকিটকিগুলো পুলিশ ব্যবহৃত এবং সাবেক মন্ত্রীর গানম্যান হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ শাখার কনস্টেবল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে ইস্যু করা ছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে ওয়াকিটকিগুলো তার কাছে ফেরত দেওয়া হয়।

গাড়িটি উদ্ধারের পর পুলিশ আদালতে আবেদন জানায়, জব্দকৃত গাড়িটি থানার কাজে ব্যবহার করা হলে পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং গাড়িটিও সচল থাকবে। তবে কোটি টাকা মূল্যের এই ধরনের বিলাসবহুল গাড়ি সাধারণত পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত ব্যবহারে আসে না। ফলে অনুমোদন মিললেও এটি কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার ব্যবহারে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top