সরকারি আইনজীবী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সমালোচনায় আসিফ নজরুল
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০২
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে সরকারি আইনজীবী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, তাঁর দায়িত্ব পালনকালে আইন ও নীতির তোয়াক্কা না করে নজিরবিহীন সংখ্যায় সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের কারণ হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য নিম্ন আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং উচ্চ আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা নির্ধারণে স্পষ্ট কোনো সীমা না থাকায় এ সুযোগের অপব্যবহার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কর্মরত রয়েছেন, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। আইন বিশেষজ্ঞরা এত বিপুল সংখ্যক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নতুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত আসিফ নজরুলের সময় নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ আইন কর্মকর্তা বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন প্রসিকিউটর পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তদন্তের কথাও জানানো হয়েছে।
নিম্ন আদালতে পিপি নিয়োগ নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত আইনজীবী নিয়োগ, এমনকি মৃত ব্যক্তিকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, দ্রুত বিতর্কিত নিয়োগগুলো পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্য জানা যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।