অব্যবহৃত ২০০ সরকারি ভবন হবে হাসপাতাল ও মাতৃসদন: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮
জাতীয় সংসদের বুধবারের অধিবেশনে একগুচ্ছ জনকল্যাণমূলক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, দেশের শহরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা প্রায় ২০০টি সরকারি বহুতল ভবনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তর করা হবে। এসব ভবন জনসেবায় ব্যবহার না হওয়ায় তা এখন আর অবহেলায় ফেলে রাখা হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যেই এসব ভবন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়ে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সময়ে হামের টিকা আমদানিতে কিছু ঘাটতি ছিল। তা কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফের সহযোগিতায় দ্রুত প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নিরসনে সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়াতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় দুই কোটি পঁচাত্তর লাখ কৃষকের জন্য বিশেষ কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা একসঙ্গে দশটি সেবা পাবেন, ফলে জেলা শহরে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি কমবে। আগামী পাঁচ বছরে বিশ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, কৃষকদের জন্য আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি, উন্নত সার ব্যবহার এবং শীতল সংরক্ষণাগার নির্মাণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের সুবিধা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, এখন থেকে কোনো সংসদ সদস্য করমুক্ত গাড়ি বা সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। সরকারি কার্যক্রমের প্রয়োজনে গাড়ি ব্যবহার করা গেলেও তা ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না।
শিশুদের কল্যাণে চলতি অর্থবছরে দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পাটের ব্যাগ ও জুতা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সংসদে সতর্ক করেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।