বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ছেলের মোটরসাইকেলের তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ালেন মা

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৪

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পরিবারের হাল ধরতে ছেলের মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি সংগ্রহে প্রখর রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে এক মাকে। ঘটনাটি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনের।

বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য তেলের লাইনে অপেক্ষা করছেন। জ্বালানি না পেয়ে সাগর বৈদ্য আপাতত মোটরসাইকেল চালানো বন্ধ রেখে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। সংসারের চাপে ছেলের পেশা সচল রাখতে নিজেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন তার মা।

বিথিকা রানী জানান, তার ছেলে মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। কয়েকদিন ধরে তেল না পাওয়ায় সে মাঠে কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। দুই দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাননি তিনি। পরে তেল দেওয়ার খবর পেয়ে আবারও লাইনে এসেছেন।

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে সীমিত আকারে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইউনিয়নে তেল দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ বিরতির পর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে আবারও তেল বিতরণ শুরু হয়েছে।

এর আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপকের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর পাঁচ দিন তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে দুই হাজারের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। জ্বালানি সংকটে এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল চালকেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে বাড়ছে পারিবারিক আর্থিক চাপ।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তেল সরবরাহ করা হয়। এরপর সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হয়। তবে প্রভাবশালীদের নিয়ম ভেঙে তেল দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই নিশ্চিত নন, তারা আদৌ তেল পাবেন কিনা।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পরিষদের সমন্বয়ে পুনরায় তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top